11%
ছাড়
শূন্য – হুমায়ূন আহমেদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী | Shikorr থেকে কিনুন
৳180
৳160
প্রোডাক্ট কোড : P0274
Product Type: Physical
বিস্তারিত
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদ আমাদের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য চমৎকার কল্পকাহিনী। তার মধ্যে “শূন্য” একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, যা পাঠককে নিয়ে যায় রহস্যময় মহাবিশ্বের ভেতরে।
ভূমিকা
আমাদের চারপাশের চেনা জগৎ এবং চারপাশের বাইরে অচেনা জগৎ নিয়ে আমার নিজের কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। মাঝে মাঝে আমার অনিন্দ্রা রোগ হয়। বাসার সবাই ঘুমিয়ে থাকে আমি বারান্দায় বসে সিগারেটের পর সিগারেট টেনে হার্ট, ফুসফুসের যত রকম ক্ষতি করা সম্ভব ক্ষতি করতে থাকি। আর তখন অদ্ভুত সব চিন্তা-ভাবনা আসতে থাকে। মনে হতে থাকে- আমাদের এই শরীরের ভেতর আছে আরেকটি শরীর, আমাদের এই জগতের ভেতরে আছে আরেকটি জগৎ। সেই জগৎ সম্পর্কে লিখলে কেমন হয়?
শূন্য নামের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার এই হল ‘শানে নজুল।’ শূন্য বইটিতে যুক্তির চেয়ে কল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার সময় লেখককে সচেতনভাবে কল্পনা পরিহার করে যুক্তিতে থাকার চেষ্টা করতে হয়। আমি কখনো তা পারি না। আমি শ্রদ্ধা করি- যুক্তি, কিন্তু ভালবাসি-কল্পনা। আর এটা তো জাগতিক সত্য ভালবাসার এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ভালবাসাই জয়ী হয়।
আমার এই কল্পকাহিনী যদি পাঠক-পাঠিকাদের কিছুটা হলেও দ্বিতীয় জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে তাহলেই আমার অনিদ্র রোগে রাত জাগা সফল হবে। জয় হোক অনিদ্রার।
হুমায়ূন আহমেদ
এলিফেন্ট রোড
২২-০২-৯৪ সারাংশ
এই সায়েন্স ফিকশনের মূল চরিত্র হল মনসুর সাহেব। তিনি একজন স্কুল-শিক্ষক। তার পরিবার-পরিজন বলতে তেমন কেউ নেই। একা একা থাকেন। আর দিন-রাত গণিতের বিভিন্ন জটিল জটিল সমস্যা নিয়ে ভাবেন। এক রাতে তিনি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাহত হন। তারপর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন অপ্রকৃতস্থতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি একজনকে সব সময় তার সাথে দেখতে পান, যে কি না নিজেকে শূন্য জগতের বাসিন্দা বলে দাবি করে। সে যুবক আরও দাবি করে যে সে মনসুর সাহেবকে সাহায্য করার জন্যে এসেছে। এরপর থেকে লেখক গল্পে বিরাট মায়াজাল সৃষ্টি করেছেন। এই শূন্য জগত থেকে আসা যুবক যাকে মনসুর সাহেব তার প্রিয় রাশিমালার নামে ফিবোনাক্কি বলে ডাকেন, তার কি আসলেই বাস্তব জগতে কোন অস্তিত্ব আছে না কি সে শুধুই মনসুর সাহেবের কল্পনা? এই প্রশ্নের উত্তর গল্পের শেষে পাওয়া যায়। এদিকে দেখা যায় মনসুর সাহেব ফিবোনাক্কি রাশি ব্যবহার করে এক জটিল গাণিতিক রহস্য সমাধানের প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন। যেই সমস্যা মনসুর সাহেবের দাদা এবং বাবাও সমাধান করার চেষ্টা করেছিল। অর্থাৎ তারা তিন পুরুষ ধরে এই কাজটি করছেন। কিন্তু মনসুর সাহেবের কোন উত্তরাধিকার না থাকায় তাকে এই সমস্যাটা সমাধান করতেই হবে। এদিকে তার শরীরও ক্রমশই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তার সময় শেষ হয়ে আসছে। তিনি কি পারবেন এই সমস্যার সমাধান করতে? মনুষ্য জাতি কি সক্ষম হবে এমন এক রহস্যের সমাধান বের করতে যা তাদেরকে শূন্য মাত্রার জগতে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে? ‘শূন্য’ বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এখানে গল্পের কাহিনী বিজ্ঞানের খুব কাছাকাছি থেকে তৈরি করা হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম স্থান দখল করে আছেন। একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও নাট্যকার এ মানুষটিকে বলা হয় বাংলা সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি বেশ সমাদৃত। বাদ যায়নি গীতিকার কিংবা চিত্রশিল্পীর পরিচয়ও। সৃজনশীলতার প্রতিটি শাখায় তাঁর সমান বিচরণ ছিল। অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ সফলতা এবং তুমুল জনপ্রিয়তা। স্বাধীনতা পরবর্তী বাঙালি জাতিকে হুমায়ুন আহমেদ উপহার দিয়েছেন তাঁর অসামান্য বই, নাটক এবং চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের বদৌলতে মানুষকে করেছেন হলমুখী, তৈরি করে গেছেন বিশাল পাঠকশ্রেণীও। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ দেখতে দর্শকের ঢল নামে। এছাড়া শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, ঘেটুপুত্র কমলা প্রভৃতি চলচ্চিত্র সুধীজনের প্রশংসা পেয়েছে। অনন্য কীর্তি হিসেবে আছে তাঁর নাটকগুলো। এইসব দিনরাত্র, বহুব্রীহি, আজ রবিবার, কোথাও কেউ নেই, অয়োময়ো আজও নিন্দিত দর্শকমনে। হিমু, মিসির আলি, শুভ্রর মতো চরিত্রের জনক তিনি। রচনা করেছেন নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোছনা ও জননীর গল্পের মতো সব মাস্টারপিস। শিশুতোষ গ্রন্থ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মিলিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এর বই সমূহ এর পাঠক সারাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদ এর বই সমগ্র পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জন করেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), একুশে পদক (১৯৯৪), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮), শিশু একাডেমি পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদকসহ নানা সম্মাননা। হুমায়ূন আহমেদ এর বই, চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য রচনা দেশের বাইরেও মূল্যায়িত হয়েছে৷ ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় কুতুবপুরে পীরবংশে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। গাজীপুরে তাঁর প্রিয় নুহাশ-পল্লীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
একটু পড়ে দেখুন
শুন্য
হুমায়ূন আহমেদ
© লেখক
৬ষ্ঠ মুদ্রণ
:
এপ্রিল ২০০০
৫ম মুদ্রণ
:
অক্টোবর ১৯৯৬
১১শ মুদ্রণ
: অক্টোবর ২০১৪
৪র্থ মুদ্রণ
৩য় মুদ্রণ
:
মে ১৯৯৪
১০ম মুদ্রণ
:
জানুয়ারি ২০১২
:
ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
৯ম মুদ্ৰণ
:
জুলাই ২০১০
২য় মুদ্রণ
: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
৮ম মুদ্রণ
:
সেপ্টেম্বর ২০০৮
প্ৰথম প্ৰকাশ
: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
৭ম মুদ্রণ
:
নভেম্বর ২০০৫
সময়
সময় ০৮৩
প্রকাশক
ফরিদ আহমেদ
সময় প্রকাশন
৩৮/২-ক বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ
প্রচ্ছদের আলোকচিত্র : সাইফুল ইসলাম
কম্পোজ
নৃশা কম্পিউটার্স
আজিমপুর, ঢাকা ১২০৫
মুদ্রণ
সময় প্রিন্টার্স
২২৬/এ ফকিরাপুল, ঢাকা ১০০০
SHUNNAYA A Science Fictionl by Humayun Ahmed. First Published: February
Bookfair 1994, 11th Print : October 2014 by Farid Ahmed, Somoy Prakashan,
38/2Ka Banglabazar, Dhaka.
ISBN 984-458-083-1
Code: 083
নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র : ‘সময় ... প্লাজা এ. আর (৪র্থ তলা), সড়ক ১৪ (নতুন)
ধানমন্ডি (মিরপুর রোড, সোবহানবাগ মসজিদের পাশে), ঢাকা ।
১
সকাল থেকেই তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। শুরুতে ব্যাপারটা তিনি বুঝতে
পারেননি। স্কুলে রওনা হবার আগে আয়নায় চুল আঁচড়াতে গিয়ে মনে
হল—বাঁ চোখের কোণাটা ভেজা ভেজা। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আয়নায়
ভাল করে তাকিয়ে দেখেন শুধু বাঁ চোখ না, দু'চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
অথচ চোখে কোন জ্বালা-যন্ত্রণা নেই। রহস্যটা কি? বয়সকালে শরীরবৃত্তির
নিয়ম-কানুন কি অন্য রকম হয়ে যায়?
খানিকটা বিস্ময় এবং খানিকটা বিরক্তি নিয়ে তিনি স্কুলে গেলেন ।
প্রথম পিরিয়ডে বীজগণিত। ক্লাস নাইন, সেকশান বি। ফার্স্ট পিরিয়ডে
রোলকল করতে হয়। শুধু শুধু সময় নষ্ট। চুয়ান্ন জন ছেলে । প্রতিছেলের
পেছনে চার সেকেন্ড করে ধরলে—দুইশ' ষোল সেকেন্ড । অর্থাৎ তিন দশমিক
ছয় মিনিট। পঞ্চাশ মিনিটের ক্লাসের আঠারো ভাগের এক ভাগ সময় চলে
গেল । সময়ের কি নিদারুণ অপচয়! কোন মানে হয় না ।
হেডমাস্টার সাহেবের কঠিন নিয়ম। রোলকল করতে হবে। বত্রিশ
বছর মনসুর সাহেব নিয়ম পালন করেছেন। রোলকল করে সময় নষ্ট
করেছেন। আজই নিয়মের ব্যতিক্রম করলেন। রোলকল না করে সরাসরি
বোর্ডে চলে গেলেন ।
চোখ দিয়ে পানি পড়াটা এই সময় বেড়ে গেল। বোর্ডে যা লেখেন
পড়তে পারেন না । চোখের পানির জন্যে সব ঝাপসা দেখা যায় । তিনি এক
সময় বিব্রত গলায় বললেন, থাক, আজ আর পড়াব না। চোখে সমস্যা ।
ছাত্ররা কেউ শব্দ করল না। আগে যেমন বোর্ডের দিকে তাকিয়েছিল
এখনো তেমনি তাকিয়ে রইল। মনসুর সাহেব বললেন—চোখ দিয়ে পানি
পড়ছে। বোর্ডের লেখা পড়তে পারছি না ।
এই কথার পরেও ছাত্ররা বোর্ডের লেখা থেকে চোখ সরাল না, যেন
তারা পাথরের মূর্তি। মনসুর সাহেবের মন কিছুটা খারাপ হল। ছেলেরা
তাকে এত ভয় পায় কেন? তিনি তাঁর বত্রিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে—
কোন ছাত্রকে ধমক পর্যন্ত দেননি। তাহলে এরকম হচ্ছে কেন?
পাশের ক্লাসে বীরেন বাবু জিওগ্রাফী পড়াচ্ছেন—জলবায়ু। পড়ার
ফাঁকে ফাঁকে কি সব বলেছেন—ছাত্ররা হো হো করে হাসছে। হাসি শুরু হয়
আর থামতে চায় না। বীরেন বাবু রাগী গলায় ধমকান, থামবি? না ধরে
আছাড় দেব? কানে চাবি দিয়ে বৃন্দাবন পাঠিয়ে দেব, বুঝলি? ছাত্ররা আরো
হাসে। মনসুর সাহেবের মনে হল, ক্লাস এরকমই হওয়া উচিত। ছাত্ররা
আনন্দে থাকবে। যা শেখার শিখবে আনন্দে। এমন যদি হত—বীরেন বাবু
বাজে টিচার, ভাল পড়াতে পারেন না, তাহলে একটা কথা ছিল। ব্যাপার
মোটেই সে রকম নয়। শিক্ষক হিসেবে বীরেন বাবুর কোন তুলনা নেই ।
মনসুর সাহেব চক হাতে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মনে করার
চেষ্টা করছেন—তার এই দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে কখনো কি তাঁর কোন
কথায়, কোন রসিকতায় ছাত্ররা প্রাণখুলে হেসেছে?
তিনি মনে করতে পারলেন না । ছাত্রদের মুগ্ধ করার কোন বিদ্যা তাঁর
জানা নেই । তিনি গল্প করতে পারেন না। গল্প শুনতেও তাঁর ভাল লাগে না ।
কোন কিছুই তাঁর বোধহয় ভাল লাগে না । তিনি আগ্রহ বোধ করেন না । এই
যে এতগুলো ছাত্র তাঁর সামনে বসে আছে তিনি এদের কারোর নাম জানেন
না । রাস্তায় এদের কারোর সঙ্গে দেখা হলে তিনি চিনতে পারবেন না । অথচ
তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল নয়। আজ ছাত্র কতজন আছে? আজ সবাই কি
উপস্থিত? তিনি গোনার চেষ্টা করছেন। চোখে অস্পষ্ট দেখছেন বলে গুনতে
অসুবিধা হচ্ছে ।
‘তোমরা আজ কতজন উপস্থিত?'
ফর্সা একটা ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে ভীত গলায় বলল—‘স্যার ৪১ জন ।
তিনি একটু চমকালেন- একচল্লিশ জন উপস্থিত। একচল্লিশ একটা
মৌলিক সংখ্যা । প্রাইম নাম্বার । একচল্লিশ জন উপস্থিত হলে অনুপস্থিত হল
১৩ জন। ১৩ আরেকটি মৌলিক সংখ্যা। প্রাইম নাম্বার। বাহ, পরপর দু'টা
প্রাইম সংখ্যা পাওয়া গেল। ইন্টারেস্টিং তো ।
মনসুর সাহেবের চোখ দিয়ে পানি পড়া বেড়েছে। চশমার ফাঁক দিয়ে
গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তিনি রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে আবারও
বললেন—আমার চোখে একটা সমস্যা হয়েছে। পানি পড়ছে। আজ
তোমাদের পড়াব না । বাবারা, আমি দুঃখিত ও লজ্জিত ।
তিনি নিজের চেয়ারে বসলেন । ক্লাস শেষ হতে এখনো অনেক বাকি
এতক্ষণ কি করবেন? বসে থাকবেন চুপচাপ? এতে ছাত্রদের ক্ষতি হবে।
সেটা ঠিক হবে না। উপদেশমূলক কোন গল্প বলতে পারলে ভাল হত।
উপদেশটা গল্পচ্ছলে শিখলেও লাভ । ঈশপের একটা গল্প বলা যেতে পারে।
ঈশপের গল্পগুলো কি যেন—? একটা গল্প আছে না-ধোপাদের নীলের
গামলায় একবার এক শেয়াল পড়ে গেল । তার গা হয়ে গেল ঘন নীল—এটা
কি ঈশপের গল্প, না অন্য কারো গল্প? এই গল্পের উপদেশটা কি? আশ্চর্য!
উপদেশটা মনে পড়ছে না ।
মনসুর সাহেব তাঁর সামনের টেবিলে হাত রেখে তার উপর মাথা
রাখলেন—এই ভাবেই গল্পটা মনে করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। ক্লাস শেষ
হবার ঘণ্টা পড়ল । তাঁর ঘুম ভাঙল না। ছাত্ররাও কেউ কোন শব্দ করল না ।
পরের পিরিয়ডে হেডমাস্টার সাহেবের ইংরেজি পড়াবার কথা। তিনি মনসুর
সাহেবকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। বিস্মিত হয়ে বললেন, আপনার কি
শরীর খারাপ?
'জী না।'
‘দেখে তো মনে হচ্ছে শরীর খারাপ। চোখে কি হয়েছে?'
‘বুঝতে পারছি না। পানি পড়ছে।'
-
‘এই শরীর নিয়ে ক্লাসে এসেছেন কেন? যান যান বাড়ি যান। বাড়ি
গিয়ে রেস্ট নিন।'
1
মনসুর সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। হেডমাস্টার সাহেব বললেন, বাসায়
কি নিজে নিজে যেতে পারবেন, না কেউ গিয়ে দিয়ে আসবে?
দেখিয়ে
‘যেতে পারব। নিজেই যেতে পারব।'
‘বজলুর ফার্মেসিতে আগে যাবেন। বজলু আছে। ওকে চোখটা
অষুধ নিয়ে তারপর যাবেন।'
‘জী আচ্ছা।’
‘আপনার বয়স হয়েছে। শরীর দুর্বল। এই বয়সে শরীরের দিকে খুব
যত্ন নিতে হয় ।
Customer Reviews (0)
This product has no reviews yet.
Be the first one to write a review.
Baby Food
Healthcare
বেবি কালেকশন
Women's Fashion
বই (BOOK)
মুদি (Grocery)
গ্রামীণ পণ্য (Organic)
Mobile & Gadgets
Electronics
Laptops
Home Decor
Kitchen & Dining
Gift Boxes
Men's Fashion